হিরোশিমা ও নাগাসাকি রহস্য

১৯৪৫ সালের সকাল সাড়ে ৮টা। জাপানের হিরোশিমা শহরের মানুষ অফিসে যাচ্ছে কিংবা ব্যবসায়ের কাজে ব্যস্ত। ছোটরা স্কুলে যাচ্ছিলো আবার কেউ কেউ ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেসময় আকস্মিক বিষ্ফোরণ। নিমিষেই হিরোশিমার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। চোখের পলকেই সব নিঃশেষ হয়ে যায়। এর তিনদিন পর নাগাসাকিতেও একইরকম আরো একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। উভয় বোমা ছিলো আমেরিকার নিঃক্ষেপিত পারমাণবিক বোমা। হিরোশিমায় ফেলা হয়েছিলো লিটল বয় ও নাগাসাকিতে ফেলা হয় ফ্যাটম্যান। কিন্তু আমেরিকা কেন জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলো? চলুন এবার হিরোশিমা ও নাগাসাকির উপর আমেরিকার পারমাণবিক বোমা হামলার রহস্য নিয়ে আলোচনা করা যাক:

মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বড় ভূমিকা পালন করেছে জার্মানি ও জাপান। জার্মান পুরো ইউরোপ জুড়ে তান্ডব ছড়িয়েছে। আর জাপান এশিয়ার দিকে তান্ডব ছড়ায়। জাপান ছিলো জার্মানির নেতৃত্বাধীন মিত্র পক্ষ। জার্মানি হিটলারের অধীনে প্রচুর ক্ষতি করেছিলো। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের ইহুদি নিধন এখনো সকলের মনে কাটা দেয়।

যাই হোক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান আমেরিকার নৌবহরে এক ভয়ংকর হামলা করে বসে। যা ইতিহাসে পার্ল হারবার এটাক নামে পরিচিত। সেখানে অপ্রস্তুত আমেরিকান সৈন্যদের পুরো ধ্বংস করে দেয় জাপানি সৈন্যরা।

এভাবে চললেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক পর্যায়ে গিয়ে জার্মানি পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় এবং হিটলার আত্মহত্যা করে। একসময় যখন জার্মানি নিজ দেশেই অবরুদ্ধ হবার শামিল তখন জার্মানি আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

জার্মানি আত্মসমর্পণ করলেও বাকি থাকে জাপান। জাপানকে অনেক অনুরোধ করলেও জাপান একের পর এক তান্ডব চালাতে থাকে। ততক্ষণে আমেরিকার পারমাণবিক বোমা তৈরি হয়ে যায়। আমেরিকা কিছু না বলেই হঠাৎ করে প্রথমে জাপানের হিরোশিমাতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এই বোমা নিক্ষেপের আগ পর্যন্ত কারোরই এই বোমা নিয়ে ধারণা অবধি ছিলো না যে এটা এতটা ধ্বংসাত্মক। এর তিনদিন পর নাগাসাকিতেও একইরকম হামলা চালায়।

অবস্থা যে বেগতিক তা বুঝে যায় জাপান। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমেরিকা জাপানের আরো দুটো বড় শহরে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। ঠিক সে মুহূর্তে জাপান আত্মসমর্পণ করে।

মূলত এই জাপানকে রুখে দেয়া ও পার্ল হারবারের প্রতিশোধ ছিলো আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য। এরচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমেরিকা বিশ্বকে দেখাতেই চেয়েছিলো তারাই হচ্ছে নতুন পরাশক্তি।

About Md Sanuar Mahmud

Nothing special

Check Also

EngineersThought Thumbnail

গুগল তৈরির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আমরা সবাই গুগলের সাথে পরিচিত। এমনকি বর্তমানে কোনো মানুষ এমন পাওয়া মুশকিল যারা তাদের জীবনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *